Header Ads Widget

Responsive Advertisement

"আমার স্বপ্ন"-২য় ও শেষ পর্ব

২য় পর্ব...
প্রথম পর্বের পর... 

আমি বলতে শুরু করলাম। জান্নাত কে আমি পছন্দ করতাম তুইতো সেটা জানিস তাই না?
রায়হান বললো হ্যাঁ জানি। আমি বললাম হুম জান্নাত এর জন্যই সব হলো।
তবে জানিস যেই জান্নাত এর জন্য এতো কিছু করলাম আমার ৫ বছর জেল হলো সেই জান্নাত কেই আমার মনের কথা বলতে পারিনি।
আর আমি এখন শহরে সেই জান্নাত কেই খুজতে যাচ্ছি। কারণ গত ৫ বছর ধরে তার সাথে আমার কোনো যোগাযোগ নেই। রায়হান বলললো কি বলতেছিস ৫ বছর জেলে একটি বারের জন্য জান্নাত তোর সাথে দেখা করতে আসেনি? আমি বললাম না।
 ও হয়তো জানে আমি একজন অপরাধী সেজন্য আমার সাথে কোনো যোগাযোগ রাখেনি।
কিন্তু আমি কার জন্য অপরাধী হয়েছি সেটাতো জান্নাত জানেনা।
আর এগুলা বলার জন্যই আমি শহরে জান্নাতকে খুজতে যাচ্ছি।এখন আসল কাহিনিতে আসি।
আমি তখন অনার্স ২য় বর্ষের স্টুডেন্ট। 
আর জান্নাত এর ইন্টার এক্সাম শেষ। 
জান্নাত এর স্বপ্ন ছিলো সে ডাক্তার হবে শহরের নাম করে ডাক্তার।
যেই ডাক্তার কে সবাই এক নামে চিনবে। তাই জান্নাত ইন্টার এক্সাম দিয়েই মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রিপারেশন নিতে শুরু করে। 
সে দিন রাত ধরে পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছে মেডিকেলে চান্স পাওয়ার জন্য। 
আমি যখনই ওদের বাসার কাছ দিয়ে যেতাম তখনই দেখতাম ও মনোযোগ সহকারে পড়েই যাচ্ছে।
ওর ডাক্তার হওয়ার এতো প্রবল ইচ্ছে দেখে আমারো একটি স্বপ্ন জাগে যে জান্নাত ডাক্তার হওয়ার জন্য যত রোকমের যতো সাহায্য লাগে সব সাহায্য আমি করবো তবে সেটা আড়াল থেকে।

যেই সাহায্যের কথা জান্নাত কখনো জানবে না।
তবে রায়হান তুইতো জানতিস জান্নাত দের পরিবার এতোটাও স্বচ্ছল ছিলো না ডাক্তারি পড়ার জন্য যে পরিমান টাকার প্রয়োজন তাদের কাছে তা ছিলো না।
তার বাবা সামান্য টাকার বেতনে সরকারি চাকুরী করে। সে টাকা দিয়ে কোনো রোকমে তাদের সংসার চলে। এরভিতরে তারা জান্নাতকে কিভাবে ডাক্তারী পড়াবে?
যাই হোক জান্নাত আব্বু আম্মু সবাই আমাকে চিনতো একই এলাকায় অনেক বছর যাবৎ আছি চেনারই কথা।
তাছাড়া জান্নাত আমার একজন ভালো বন্ধু এটা জান্নাতের পরিবারের সবাই জানতো।
জান্নাতের বাবাও আমাকে খুব ভালো জানতো। 
জান্নাতের প্রিপারেশন নেয়া শেষ। এখন সময় এসেছে মেডিকেলে ভর্তি পরীক্ষা দেয়ার।
 যথারিতি জান্নাত মেডিকেলে ভর্তি পরিক্ষা দিলো। অবাক করা বিষয় হলো জান্নাত একটি মাত্র মেডিকেল কলেজে ভর্তি পরীক্ষা দিয়েছে আর সেটা চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ। আর সেখানেই জান্নাত টিকে গেলো।
জান্নাত পরিবারে অনেক আনন্দ আমিও ঘটনাটি শুনে খুব খুশি হলাম। আর মনে মনে ভাবতে লাগলাম যাক মানুষের কাছে আমি ডাক্তারের স্বামী পরিচয় দিতে পারবো।
এটা ভেবে মুচকি মুচকি হাসছিলাম। কয়েকদিন চলে গেলো। এখন জান্নাত এর মেডিকেলে ভর্তির টাইম চলে আসলো। ভর্তি শেষ হওয়ার আর মাত্র ২ দিন বাকি। কিন্তু জান্নাত এখনো ভর্তি হয়নি। আমি খবরটি শুনেই থমকে যাই। এতো ভালো মেডিকেলে চান্স পেয়ে এতো ভালো রেজাল্ট করে ও কেনো এখনো ভর্তি হলোনা??
জলদি করে ওদের বাড়িতে গেলাম আর জানতে চাইলাম কি হয়েছে। জান্নাত কোনো ভাবেই বলছে না যে কেনো সে এখনো ভর্তি হয়নি।
এরপর জান্নাতের আব্বুর কাছে জিজ্ঞেস করলাম আংকেল আপনি তো বলুন কেনো জান্নাত ভর্তি হয়নি এখনো?? জান্নাতের বাবা বললো শুনবে বাবা শুনবে কেনো জান্নাত এখনো ভর্তি হয়নি??
আমি বললাম শুনবো বলুন আপনি। জান্নাতের বাবা বলতিছে বাবা সজিব আমরা মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্ম নেয়া মানুষ। মেডিকেলে বাচ্চা কাচ্চা পড়ানোর মতো অর্থ আমাদের  কাছে নেই। আমি বললাম কি বলেন আংকেল কতো টাকা লাগবে ভর্তি করতে??
তিনি বললেন বাবা সব মিলিয়ে ৫ লাখ টাকা লাগবে। কিন্তু আমার কাছে পঞ্চাশ হাজার টাকাও নেই।
তাই জান্নাতকে এখনো ভর্তি করাতে পারিনি। কথাটি শুনে আমি মূর্তির মতো দাঁড়িয়ে রইলাম কিছু বলছি না।
এরপর সোজা জান্নাতদের ঘর থেকে বের হয়ে রাস্তায় চলে আসি আর ভাবতে থাকি কি করা যায়।
জান্নাত ডাক্তার হবে এটাতো শুধু জান্নাতের একার স্বপ্ন না এটাতো আমারো স্বপ্ন। 
আমার স্বপ্নকে বাস্তবে রুপ দেয়ার জন্য এখন যা করার আমাকেই করতে হবে। তাই সিধান্ত নিলাম যা করার কালকের ভিতরেই করতে হবে।
সারারাত ভেবে চিন্তে একটি সিধান্ত নিলাম। সকাল ৯ টা নাগাদ আমি রুপালী ব্যাংকের সামনে এসে দাড়িয়ে থাকি। আর ফলো করতে থাকি যে ৫ লাখ পরিমাণ টাকা ব্যাংক থেকে তোলার জন্য কেও গিয়েছে কিনা।
৩ ঘন্টা দাঁড়িয়ে থেকে একজন কে ব্যাংক থেকে ১০০০ টাকার ৬'৭ বান্ডেল নিয়ে বের হতে দেখলাম। মনে মনে সিধান্ত নিলাম যা করার ওনার সঙ্গেই করতে হবে।
ওনাকে দেখলাম একটি রিকশা নিয়ে রিকশার করে যাচ্ছে।আমিও তাকে ফলো করতে থাকি।
 আর সূযোগ খুজতে থাকি যখনোই কোনো নির্জন জায়গা আসবে আমি তার উপর ঝাপিয়ে পড়বো।
অবশেষে এমন জায়গায় আসলাম যেখানে কেও নেই ছুরিটি নিয়ে তার সামনে যেয়ে দাড়ালাম।
আর বললাম হাতে থাকা ব্যাগটি আমাকে দেয়ার জন্য। সে কোনো ভাবেই আমাকে তার ব্যাগ দিবে না।
আমি তার দস্তা দস্তি সহ্য না করতে পেরে ছুরি দিয়ে তার হাতে একটি পোছ দিয়ে ব্যাগটি নিয়ে দৌড়ে জায়গা পরিবর্তন করি।
টাকা গুলো নিয়ে সোজা জান্নাতের বাবার কাছে চলে আসি। আর ওনাকে বলি আংকেল আমি জান্নাতের নামে একটি লটারির টিকিট কেটেছিলাম কালকে রাতে সেই লটারির ড্রো হয়েছে। আর আজকে আমি নাম্বার মিলিয়ে দেখলাম যে ৫ লাখ টাকার ৩য় পুরুষ্কার জান্নাত পেয়েছে।

আর এখন আমি টাকা গুলোও সংগ্রহ করে নিয়ে এসেছি।আপনি তারাতাড়ি জান্নাত কে ভর্তি করানোর ব্যাবস্থা করুন।এখন ২ টা বাজে ভর্তি করানোর লাস্ট টাইম ৫ টা পর্যন্ত। যাওয়ার সময় বলে দিলাম টাকার উৎস যাতে কারো সাথে সেয়ার না করে। উনি চলে গেলেন।
৪ঃ৩০ এ জান্নাত আমাকে ফোন দিয়ে বলে সে মেডিকেলে ভর্তি হয়েছে। আমি সেই খবর শুনে খুশিতে আত্বহারা হয়ে যাই এরপর বাসায় এসে আমি যা যা করেছি সব আব্বু আম্মুর সাথে সেয়ার করি। আর এসব ব্যাপার যাতে তারা জান্নাতের কাছে কিছু সেয়ার না করে সেটাও বলে দেই।
সন্ধা ৭ টা নাগাদ আমার বাসায় পুলিশ আসে।
 তারা রাস্তার পাশে থাকা একটি সিসি ক্যামেরা থেকে আমার চেহারা নিশ্চিত করেছে।
আমি হাসি মুখে তাদের সাথে রওনা দেই। আর আম্মু আব্বু কে বলি আমাকে ছাড়ানোর জন্য যাতে কোনো চেষ্টাই তারা না করে। 
কারণ আমি যেই পাঁপ করেছি সেটার শাস্তি অবশ্যই পেতে হবে।জেল হাজতে যাওয়ার পর আমাকে অনেক মারধর করা হয় টাকাগুলো কোথায় রেখেছি সেটা জানার জন্য  আমি কোনো ভাবেই স্বীকার করিনি।
এরপর আদালতে নেয়া হলে সেখান থেকে ৫ দিনের রিমান্ডে দেয়া হয়। আমি তখনো মুখ খুলিনি। এরপর জজ সাহেব সময়ের অপচয় না করে ৫ লাখ টাকার জন্য আমাকে ৮ বছরের জেল দিলেন।
যেহেতু আব্বু আম্মুকে নিষেধ করেছি তারা যাতে না আসে আর তাছাড়া ৫ লাখ দেয়ার মতো সামর্থ তাদের ছিলো না। যদি থাকতো তাহলে অবশ্যই আমাকে থানা থেকে নিয়ে যেত। আর জান্নাতের কাছে খবর যায় খুন করতে যেয়ে আমি ধরা খেয়েছি। 

এরপরের ঘটনা তো তোকে বললামই। আব্বু আম্মু শহর থেকে গ্রামে চলে এসেছে।
আমার সাথে জান্নাতের কোনো যোগাযোগ হয়নি। এভাবে গল্প করতে করতে কখন যে আমরা চট্টগ্রাম চলে এসেছি বুঝতেই পারিনি। গাড়ি থেকে নেমে রায়হান আমাকে বিদায় জানিয়ে ওর কাজে চলে যায়।
আমিও আমার বন্ধু সরোয়ারের মেসে চলে আসি। এখন আমি একদম নিঃস্ব, হাতে নেই কোনো টাকা পয়সা, নেই কোনো কাজ। সারোয়ারই আমার একমাত্র ভরসা।
বিপদে আপদে ও আমাকে সব সাহায্য করতো এবং এখনো করেই যাচ্ছে। ওর বাসায় এসে আমি প্রথমেই সিদ্ধান্ত নেই কোনো একটি কাজে যোগদান করবো।
কিন্তু শহরে কাজতো আর চাইলেই পাওয়া যায় না। আর আমার প্ল্যান ছিলো কাজের পাশাপাশি আমি জান্নাত কে খুজবো।
সারোয়ারের মেসে এসে ফ্রেশ হয়ে খাওয়া দাওয়া করে বিশ্রাম নেয়। সারোয়ার এখানের একটি কোম্পানিতে জব করে।
ওর কোম্পানিতে কোনো লোক নিচ্ছে না নাহলে আমি ওর কোম্পানিতেই জব করতে পারতাম।
আমার মাঁথায় এখন হাজারো চিন্তা ঘুরপাক খাচ্ছে। আমি কিভাবে আগের পজিশনে যেতে পারবো, আগের সব ফিরে পাবো, তবে সবকিছু ফিরে পেলেও লেখা পড়াতো আর ফিরে পাবোনা আমার স্বপ্ন ছিলো অনার্স কমপ্লিট করে বিসিএস পরিক্ষা দিবো।
আমার সে স্বপ্ন আর কখনোই পূরণ হবেনা। কারণ জান্নাত এর স্বপ্ন পূরণের জন্য যে আমি আমার স্বপ্ন বিসর্জন দিয়েছি।
সারোয়ার আমাকে একটি কোচিং সেন্টারে পড়ানোর জন্য অফার করে।
কোচিং সেন্টারটি ওর পরিচিত একজন বড় ভাই এর। আমিও রাজি হয়ে গেলাম। কারণ কিছু না করার চাইতে অন্তত এই কাজটি করা অনেক ভালো।
যাকে বলে (নাই মামার চেয়ে কানা মামাই ভালো) ভালো ভাবেই আমার দিন যাচ্ছিলো। 
এর ভিতরে জান্নাতকে খুজাও অব্যাহত রাখলাম। কাজের পরে মেক্সিমাম টাইম ওকে খুজেই ব্যায় করি।
১ মাস পর একদিন হঠাৎ করে রায়হান আমাকে ফোন দেয় আর বলে তুই কাল বিকাল ৫ টায় আগ্রাবাদ জাম্বুরা পার্কে চলে আয়।
আমি বললাম কেনো ভাবির সাথে পরিচয় করিয়ে দিবি নাকি? ও বলল সেটা তুই এখানে এলেই দেখতে পারবি।
তুই কাল বিকাল ৫ টায় ভালো জামা কাপড় পড়ে চলে আসিস। আমি বললাম আচ্ছা ঠিক আছে।
এই কথা বলে ফোন রেখে দিলাম। সারোয়ার কে ব্যপারটা বললাম। সারোয়ার বলল আমিও কালকে ফ্রি আছি তোর সাথে আমিও যাবো। সারোয়ার যাওয়াতে আমার সাহস অনেকটা বেড়ে যাবে।
যাই হোক এর পরের দিন আমি আর সারোয়ার রওনা হই আগ্রাবাদ জাম্বুরা পার্ক এর উদ্দেশ্যে।
৫ টা বাজার ১০ মিনিট আগেই চলে আসি। এসে দেখি কেও নেই। রায়হান এর কোনো পাত্তা নেই।

৫ টা যখন বাজলো তখন দেখলাম রায়হান আসতিছে আর ওর সাথে বোরকা পরিহিত মুখ ঢাকা একটি মেয়ে।
ভাবলাম হয়তো রায়হান এর gf হতে পারে। রায়হান আসলো আমরা ৪ জন একসাথে বসলাম।
এরপর রায়হান বলল বন্ধু সজীব আজকে তোর জীবনের সবচেয়ে বড় সারপ্রাইজ আমি তোকে দিবো।
আমি মনে মনে ভাবতিছি হালা নিজেই তার সারপ্রাইজ নিয়ে বসে আছে আর আমাকে বলে নাকি সারপ্রাইজ দিবে।
এরপর রায়হান মেয়েটিকে বলল জান্নাত বোরকার মুখশটি খুলো। জান্নাত এর নাম শুনতেই আমি যেনো আকাশ থেকে পড়লাম।
আর থতমত খেয়ে গেলাম। আমি যেনো আমার নিজের কানকে বিশ্বাস করতে পারছি না।
এরপর মেয়েটি মুখ খোলার আগেই আমাকে এসে জড়িয়ে ধরল। আমি কিছুই বুঝতেছি না।
হাবলার মতো দাঁড়িয়ে আছি। এরপর মেয়েটি বলতিছে সজীব তুমি তোমার জান্নাত কে চিনতে পারছোনা।
আমি কন্ঠ শুনেই বুজে গেলাম যে এটা আর কেও নয় আমার জান্নাত। ঠাস করে ওকে বুক থেকে সরিয়ে ওর মুখ থেকে মুখোস টা খুললাম।
আর জান্নাত কে দেখে আমি বলতে গেলে ভয়ই পেয়ে গেলাম। কারণ একে জান্নাত তার জীবনে প্রথম আমাকে জড়িয়ে ধরলো,দুইয়ে তাও আবার এতো দিন পর একজন জেলফেরত আসামি কে।
এরপর জান্নাত আবার আমাকে জড়িয়ে ধরে বলতে শুরু করলো। যে রায়হান ভাই আমাকে সব ঘটনা খুলে বলেছে।আমি রায়হান কে বললাম কিরে রায়হান তুই জান্নাত কে কোথায় খুজে পেলি আমি পুরো শহর খুজে তাকে পাইনি। রায়হান বলল তুই কি করে ওকে খুজে পাবি বল।
আমি বললাম কেনো?
রায়হান বলল হাসপাতালে গিয়ে কি ওকে খুজেছিস? আমি কি বলবো বুজতে পারছি না। আমি আসলে ভুলেই গিয়েছিলাম যে ও ডাক্তার আর ডাক্তার দের ঠিকানা হলো হাসপাতাল! 
এরপর রায়হান বলল আমার এক আত্বিও কে নিয়ে আমি কাল চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে যাই আর ওখানেই জান্নাত কে খুজে পাই।
আর তুই জান্নাত এর জন্য যা যা করেছিস আমি সব জান্নাত কে বলেছি।
এরপর জান্নাত বলতে শুরু করলো,আসলে সজীব ভাই আমি সত্যিটা জানতাম না বাবাও আমাকে কিছু বলেনি।
কিন্তু বাবা কাল আমাকে সব বলেছে।
আপনার জন্যই আজ আমি ডাক্তার হতে পেরেছি।
কিন্তু সেই আপনাকেই আমি চিন্তে পারিনি। আমি ভেবেছিলাম আপনি সত্যি সত্যি খারাপ পথে চলে গিয়েছিলেন।
আর মানুষ খুন করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু কেনো আপনি সেটা করেছেন সেটা আমি জানতাম না।
তাই জেলে কখনো আমি আপনার সাথে দেখা করতেও যাইনি। এরপর আরও অনেক কথা বলল।
শেষে আমি বললাম তো বিয়ে সাদি করোনি? বাচ্চা কাচ্চা কয়জন? জান্নাত ফিক করে হেসেদিলো।
 বলল,জীবনে ভালোইতো বেসেছি একজন মানুষকে তাহলে অন্য কাওকে কিভাবে বিয়ে করবো?
আমি ভালোবেসেছিলাম আমার সজীব ভাইকে আর সেই সজীব ভাই ছাড়া অন্য কাওকে আমি কিভাবে বিয়ে করতে পারি। আমি এখনো বিয়ে করিনি। 
সীটটি আপনার জন্যই খালি পরে আছে। এরপর আমি বুঝলাম জান্নাত ও তাহলে আমাকে মনে মনে ভালোবাসতো কিন্তু আমার মতোই সেও কখনো মুখ খুলে বলতে পারেনি। এরপর জান্নাত রায়হান আর সারোয়ার কে বলল ভাই আমি আপনাদের বন্ধুকে আমার সাথে নিয়ে যাচ্ছি এতে কি আপনাদের কোনো আপত্তি আছি?
রায়হান আর সারোয়ার বলল আমরা এতোদিন ধরে এই দিনটির জন্যই অপেক্ষা করছি।আমাদের আপত্তি কেনো থাকবে?? তুমি সজীবকে তোমার সাথে করে নিয়ে যাও।
আমি আর জান্নাত জান্নাতের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম।আর জান্নাত যাওয়ার আগে সারোয়ার আর রায়হান কে বলল ভাইয়া আমাদের বিয়ের কার্ড আপনাদের কাছে খুব দ্রুতই কিন্তু চলে যাবে।
আপনারা চলে আসবেন অবশ্যই। এই বলে  আমি আর জান্নাত তাদের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম।
খুব ধুমধাম করে আমাদের বিয়ে হলো। আমার আম্মু আব্বু বোন রায়হায় সারোয়ার সবাই এসেছিলো।

৫ বছর পর আমাদের একটি ফুটফুটে মেয়ে হয়েছে। ওর নাম রেখেছি তুলি। খুব দুষ্ট হয়েছে। সারাদিন অনেক জ্বালায় আর সে দেখতে  মাশাআল্লাহ অনেক কিউট। ঠিক তার মায়ের মতো।
আমি এখন একটি ব্যাবসা করি। মোটামুটি এখন আমি সম্পুর্ন স্বচ্ছল আগের পুরনো অতিত সব ভুলে গিয়েছি।
আজকে হঠাৎ করেই ডাইরিটি উল্টে ডাইরির লেখা গুলো পড়ে পুরনো সব কথা গুলো মনে পড়ে গেলো।
তাই ফেসবুকে পোস্ট করে আপনাদের সাথে সেয়ার করলাম।

#বিঃদ্রঃ (গল্পটি সম্পুর্ন কাল্পনিক। এর সাথে বাস্তবের কোনো মিল নেই)
যারা পুরো গল্পটি পড়েছেন আপনাদেরকে অসংখ্য ধন্যবাদ। 
সবার জন্য ভালোবাসা অবিরাম।

আল্লাহ হাফেজ!

লিখাঃ- সম্পাদক 

Post a Comment

0 Comments