Header Ads Widget

Responsive Advertisement

ভুল

- "ভাইয়া আমি আত্মহত্যা করতে চাই। কোন উপায়ে করলে ভালো হয় একটু জানাবেন?"

- "গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করতে পার। তবে আমার মনে হয় এই পদ্ধতি অনেক পুরাতন হয়ে গিয়েছে। তুমি নতুন কোনো পদ্ধতি অবলম্বন কর।"
আমার থেকে এইরকম মেসেজ পাবে ছেলেটা হয়তো তা আশা করেনি।তাই অনেক গুলো অবাক হওয়ার ইমোজি দিয়ে সেটি বুঝিয়ে দিল। হয়তো ছেলেটি মনে করেছিল আমি তাকে সান্ত্বনা দেব কিন্তু না, আমি ওসব কিছুই করবো না।কারণ কথায় আছে সোজা আঙ্গুলে ঘি না উঠলে আঙ্গুল বাঁকা করতে হয়। আমি এখন ঠিক সেটাই করতে যাচ্ছি। যে ছেলেটিকে আমি আত্মহত্যা করার পদ্ধতি বললাম ছেলেটার নাম অনিক। লেখাপড়ায় যথেষ্ট ভালো আর আমার গল্পের একজন নিয়মিত পাঠক। গল্প পড়ার সুবাদে একদিন আমাকে মেসেজ দিয়ে বলল যে আমার লেখা তার থেকে অনেক ভালো লাগে। তারপর থেকে এভাবে প্রায় সময় তার সাথে আমার কথা হয়। গতকাল রাতে মেসেজ দিয়ে জানাল তার ব্রেকআপ হয়েছে। যদিও আমি অনেক আগেই বলেছিলাম যে বিয়ের আগে প্রেম করা মানে অবৈধ সম্পর্কে লিপ্ত হওয়া। তাকে এসব থেকে দূরে আনার জন্য আমি আমার পক্ষ থেকে যথাসম্ভব চেষ্টা করেছি কিন্তু অনিক আমার কথা কানে নেইনি। গতকাল ব্যাপারটা আমাকে বলার পর আমি তাকে পূর্বের গুনাহগুলোর জন্য ক্ষমা চেয়ে নামাজ পড়তে বললাম কিন্তু না সে কান্নাকাটি করে আত্মহত্যা করবে বলছে। বুঝতে পারলাম তার কিছু সময় দরকার তাই আর কথা বাড়ালাম না। কিছুক্ষণ আগে মেসেজ দিয়ে আবারও সেই আগের কথা বলল, যে সে আত্মহত্যা করতে চাই। তাই আমিও তাকে আত্মহত্যা করার কিছু পদ্ধতি বললাম। 

বেশ খানিকক্ষণ পর অনিকের একটি মেসেজ আসলো, 

- "ভাইয়া আপনি কি সত্যিই চান যে আমি আত্মহত্যা করি?" 

- "আমি চাওয়ার বা না চাওয়ার কেউই নয়। তোমার যদি মনে হয় আত্মাহত্যা সকল সমস্যার সমাধান তাহলে তুমি অবশ্যই আত্মহত্যা করতে পারো তাতে আমার কোন আপত্তি নেই।" 

- "ভাইয়া সত্যিই আমি ফাহামিদাকে অনেক বেশি ভালোবাসি কিন্তু সে আমার সাথে প্রতারণা করবে এটা আমি স্বপ্ন তেও কল্পনাও করিনি।" 

- "তোমাকে আগেও বলেছি এখন আবার বলছি বিয়ের আগে প্রেম করা হারাম।" 

- "ভাইয়া আপনি কারো প্রেমে পড়লে দেখবেন তখন এসব কথা আর কোন কাজেই আসছে না।

- "বিয়ের পরে অবশ্যই প্রেম করবো কিন্তু বিয়ের আগে যেন প্রেমে না পরি সেজন্যই দ্বীনের পথে চলার চেষ্টা করছি।" 

- "বুঝতে পারলাম আপনার সাথে কথা বলে লাভ নেই।" 

- "মানুষ যখন শয়তানের প্রচারণায় পরে তখন তার থেকে ভালো কথাগুলো ও খারাপ লাগে আর অনিক তোমার ক্ষেত্রেও একই জিনিস হচ্ছে। এখনো সময় আছে পূর্বের গুণগুলোর জন্য ক্ষমা চেয়ে নাও নিশ্চয় আল্লাহ ক্ষমাশীল। তিনি নিশ্চয়ই তোমাকে ক্ষমা করবে।" 

- "ভাইয়া প্রতিবার একই কথা বলতে কি বিরক্ত লাগেনা?" 

- "ভালো কথা বলতে বিরক্ত না লাগাটা অস্বাভাবিক কিছু না।আচ্ছা একটা কথা বলতো তুমি যে আত্মহত্যা করতে যাচ্ছ এই বিষয়টা কি তোমার সেই প্রেমিকা জানে?"

- "হ্যাঁ ভাইয়া কিছুক্ষণ আগেই তাকে বলেছিলাম।"

- "বেশ ভালো কাজ করেছ তা প্রতিউত্তরে সে কি বলল?" 

- "ফাহামিদা বলল আমাদের সম্পর্ক নিয়ে সমস্ত প্রমাণ সে মুছে দিয়েছে।এমনকি আজ রাতে সে এই নাম্বারটিও একেবারের জন্য বন্ধ করে দিবে। আমি আত্মহত্যা করলেও তার কিছুই হবেনা। আর যত তাড়াতাড়ি সম্ভব আমি যেন তাকে বিরক্ত করা বন্ধ করে দেই।কিন্তু আফসোস আপনি কখনই আমার মনের কষ্ট বুঝবেন না।" 

- "আচ্ছা এখন বলো, যে মেয়েটাকে তুমি কয়েক বছর ধরে চেনো তোমার আত্মহত্যার খবরটা তুমি তাকে জানিয়েছ কিন্তু জন্মের পর থেকে যারা তোমার সাথে আছে তাদেরকে কি তোমার আত্মহত্যার খবর জানিয়েছ?" 

- "মানে কি বলতে চাচ্ছেন?" 

- "বলতে চাচ্ছি তুমি যে আত্মহত্যা করবে এই কথাটা কি তোমার মা-বাবা জানে?" 

- "আজব মা-বাবাকে কেন বলব?" 

- "কেন বললে এমন কি হবে?

- "তারা কষ্ট পাবে।" 

- "বাহ তাহলে না বলে আত্মহত্যা করলে কি তারা কম কষ্ট পাবে?" 

আবারো অনিকের পক্ষ থেকে কোনো মেসেজ আসছে না। তাই আমি নিজ থেকেই তাকে মেসেজ দিলাম। 

- "দেখ অনিক একটা মেয়ে তোমাকে ছেড়ে যাওয়ায় সেটার যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যা করতে উদ্বিগ্ন হয়েছ কিন্তু তুমি কি একটা বারের জন্যও চিন্তা করেছ যে আত্মহত্যা করার পর তোমার জন্য কত ভয়াবহ শাস্তি অপেক্ষা করছে? (হে মুমিনগণ! তোমরা নিজেদেরকে হত্যা করো না। নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের প্রতি পরম দয়ালু)। [সুরা নিসা : আয়াত ২৯] একটা মেয়ে ছেড়ে যাওয়ার যন্ত্রণা তুমি সহ্য করতে পারছো না আর আত্মহত্যা করার কারণে যখন জাহান্নামের আগুনে জ্বলতে হবে সেই যন্ত্রণা কি তুমি সহ্য করতে পারবে? (যে ব্যক্তি বিষপান করে আত্মহত্যা করবে, তার বিষ জাহান্নামের আগুনের মধ্যে তার হাতে থাকবে এবং সে জাহান্নামে চিরকাল বিষ পান করতে থাকবে।- যে ব্যক্তি লোহার আঘাতে আত্মহত্যা করবে, জাহান্নামের মধ্যে সে ব্যক্তির হাতে লোহা থাকবে আর সে চিরকাল সে লোহা দ্বারা নিজেকে আঘাত করতে থাকবে)। [বুখারি, নাসাঈ] মহান রাব্বুল আলামিন ক্ষমাশীল। তিনি নিশ্চয় আমাদের সবাইকে ক্ষমা করবেন। (যে গোনাহ করে কিংবা নিজের অনিষ্ট করে, অতঃপর আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে, সে আল্লাহর ক্ষমা, করুণা পায়)।[সুরা নিসা আয়াত: ১১০] তুমিও মন থেকে মহান রাব্বুল আলামিনের কাছে ক্ষমা চাও আর পূর্বের গুনাহ গুলো ভবিষ্যতে করবেনা এই ওয়াদা করো। তাহলে দেখবে তোমার জীবনের সকল কষ্ট কিছুক্ষণের মধ্যেই ধুলো হয়ে  আকাশে উড়ে যাবে।আর হ্যাঁ তারপরও যদি তোমার ইচ্ছে করে আত্মহত্যা করতে তাহলে অবশ্যই সেটা করার আগে তোমার মা-বাবা কে জানাবে।" 

অনিক আমার মেসেজ সিন করেছে ঠিকই কিন্তু তার উত্তর দিচ্ছে না। হঠাৎ কানে এশার আযানের ধ্বনি আসলো তাই দেরি না করে অজু করে সালাত আদায় করলাম। সালাত আদায় করে এসে মোবাইলটি হাতে নিয়ে দেখলাম অনিক এখনো মেসেজর উওর দেয়নি। তাই খাওয়া দাওয়া করে শুয়ে পড়লাম। 

ফজরের নামাজের পর আমার অর্ধাঙ্গিনী অর্থাৎ আয়েশার হাত ধরে পুকুর পাড়ে হাঁটছিলাম এমন সময় একটি অচেনা নাম্বার থেকে কল আসে। কলটি রিসিভ করতেই ওপাশ থেকে একটি ছেলে বলল, 

- "আসসালামু আলাইকুম।" 

- "ওয়া আলাইকুমুস সালাম।" 

- "ভাইয়া চিনতে পেরেছেন?" 

- "না ঠিক চিনতে পারিনি আপনার পরিচয়টা দিলে চিনতে সুবিধা হতো।" 

- "ভাইয়া আমি অনিক।" 

- "বাহ তা এত সকাল-সকাল কেমনে?" 

- "ভাইয়া ফজরের সালাত আদায় করেই আপনাকে কল দিয়েছি।" 

- "আলহামদুলিল্লাহ শুনে খুব বেশি ভালো লাগছে।  তা এখন কি সিদ্ধান্ত নিলে?" 

- "ভাইয়া অনেকক্ষণ চিন্তা করে বুঝতে পারলাম আত্মহত্যা কখনোই কোনো সমস্যার সমাধান হতে পারে না আর আমি যখন আম্মুকে আমার আত্মহত্যার খবর জানালাম তখন আম্মু আমাকে বুকে জড়িয়ে নিলেন এবং বললেন আর কখনোই   যেন এমন কথা না বলি। শুধু তাই না আব্বু প্রথমে থাপ্পর দিলেও পরবর্তীতে আমার পছন্দের ইলিশ মাছ এনে নিজের হাতে রান্না করে খাওয়ালেন। আর ছোট বোন জেরিন, তার ড্রয়ারে থাকা সব গুলো চকলেট আমাকে দিয়ে বলল আমি যেন তাকে ছেড়ে কোথাও না যায়।সত্যি বলতে ভাইয়া ওই মুহূর্তে মনে হয়েছিল আমি পৃথিবীর সবচেয়ে নিকৃষ্ট এবং ভয়াবহ কাজটি করতে যাচ্ছিলাম সেটার জন্য পরকালে আমার থেকে অনেক ভয়াবহ সমস্যার সম্মুখীন হতে হতো। কিন্তু আল্লাহর অশেষ রহমতের ফলে আমি ভুল কাজ করা থেকে বেঁচে গিয়েছি।"

- "অনিক তুমি তোমার ভুল বুঝতে পেরেছো এটাই অনেক বেশি। মানুষ নিজের অজান্তে অনেক ভুল করে আবার অনেকে জেনেশুনেই ভুল করে কিন্তু একটা কথা মনে রাখবে তুমি যদি মন থেকে মহান রাব্বুল আলামিনের কাছে ক্ষমা চাও তাহলে নিশ্চয় তিনি তোমাকে ক্ষমা করবে। (নিশ্চয় তিনি আল্লাহ, ক্ষমাশীল, পরম ক্ষমাপরায়ণ)।[সূরা হজ্ব আয়াত: ৬০] আর হ্যাঁ ভবিষ্যতে কখনোই এরকম অবৈধ সম্পর্কে জড়াবে না।" (মুমিনদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টি নত রাখে এবং তাদের যৌনাঙ্গর হেফাযত করে। এতে তাদের জন্য খুব পবিত্রতা আছে। নিশ্চয় তারা যা করে আল্লাহ তা অবহিত আছেন)। [সূরা নুর আয়াত: ৩০]

- "ইন শা আল্লাহ ভাইয়া।"

- "জাযাকাল্লাহু খাইরান।" 




Post a Comment

0 Comments