Header Ads Widget

Responsive Advertisement

বোবা বউ - সোলাইমান রানা

যারা বিয়ের আগে ভালবাসা করে শারীরিক সম্পর্ক করে, এরা জাতি ও সমাজের শত্রু।কোন ধর্মই এটার অনুমতি দেয় না। এই সব ভালবাসা নিয়ে নানান কথা লেখা ম্যাগাজিনে। পাশে দেওয়া আছে দীপিকা পাডুকনের  টু-কোয়াটার প্যান্ট আর ছোট গেঞ্জি পড়া ছবির পাশে। আমি ম্যাগাজিন পড়তেছি হঠাৎ আমার স্ত্রী আমার হাত থেকে ম্যাগাজিন কেড়ে নিলো। 


আমি তার দিকে তাকাতেই দেখি। আঙুল দিয়ে বুঝালো চুপ থাকতে। ম্যাগাজিনটা টান দিয়ে ছিঁড়ে ফেললো। আমি বুঝতে পারলাম  ম্যাগাজিনে দেখা মেয়েদের ছবি দেখে এমন করছে। 


কি করবো বুঝতে পারতেছি না। যখন বিয়ে করলাম তখন থেকেই এইসব সহ্য করতে হয়। একবার একটা বান্ধবীকে নিয়ে আসলাম বাড়িতে। ভাবলাম বউ যেহেতু বাপের বাড়ি বান্ধবীর সাথে একটু সুখ দুঃখের আলাপ করি। বউ আমার কখন যে ঘরে এসে রইলো জানি না।


বান্ধবীর সাথে দেখেই পারে না গুলি করে। তার মুখে রাগের ছাপ দেখলাম।


বান্ধবীকে নয় ছয় বলে বুঝিয়ে পাঠিয়ে দিলাম। আসলে খারাপ চিন্তা কখনো নিয়ে কিছু করি না। আবার বউয়ের কথা হলো কোন মেয়ের সাথে যেনো কথা না বলি। 


কয়েক বছর আগের কথা। টিউশনি করাতাম একটা মেয়েকে নাম ছিলো আর্তি। মেয়েটা দশম শ্রেণিতে পড়ে। গনিত করাতাম। 


প্রতিদিন টিউশনি করানোর সময়   আমাকে চা আর বিস্কুট দিতো। সব সময় নাস্তা দিয়ে যেতো ছাত্রীর ছোট বোন। কয়েকদিন যাওয়ার পর দেখি ছোট বোন চা দিয়ে যায় না। আরেকটা মেয়ে আসে, আমাকে নাস্তা দিয়ে দূরে দাঁড়িয়ে থাকে। আমি যদিও ছাত্রীকে পড়াতে কেমন লাগতো। তবু মেয়েটা দূরে দাঁড়িয়ে থেকে আমার দিকে তাকিয়ে থাকতো। মিটমিট করে হাসতো। 


ছাত্রীকে বললাম, 

_ মেয়েটা কে চা দিয়ে যায় যে?

_স্যার! ও আমার মামাতো বোন মালিশা।  

_নতুন দেখছি যে। 

_আমাদের এখানে আসছে । কয়েকদিন থাকবে। 


ছাত্রী আর আমি আস্তে আস্তে বলতেছি। মালিশা আমাদের কথা শুনতেছে না।


মালিশা আমাদের কথা বলতে দেখায় দেখি অনেক রাগের ছাপ নিয়ে তাকিয়ে আছে। কয়েকদিন মেয়েটাকে দেখে আমিও তার প্রতি কেমন জানি মায়া জমে গেলো। 


মালিশা রাগ করে আমাদের সামনে থেকে চলে গেলো। আমি কোন রাগের কারণই বুঝলাম না। 

পরেরদিন যখন টিউশনি করাতে গেলাম। আজকে আর্তির বোনই নাস্তা দিয়ে গেলো। মালিশাকে না দেখে মনটা কেমন ছটফট করছে। আমি নিজেও জানি না কেনো। 


 আমি ছাত্রীকে বললাম তোমার বোন কোথায় আজকে?  ছাত্রীও জবাব দিলো সোজা, এইতো নাস্তা দিয়ে গেলো এটাই বোন!

আমি বুঝিয়ে বললাম মালিশার কথা । ছাত্রী  বলে,স্যার! মালিশা আপু তো সকালেই চলে গেছে আজকে। 

কেনো গেলো? ছাত্রী বলে জানি না তবে অনেক রেগে ছিলো যাওয়ার সময়। 


আমি না পড়িয়ে বললাম তখন ছাত্রীকে মালিশা কোথায় থাকে?

ছাত্রীও গদগদ করে ঠিকানা বলে দিলো মালিশার। আমি একটা কাগজে লিখে নিলাম। 

সেই দিন আর না পড়িয়ে বাসায় চলে আসি। দুদিন আর টিউশনি করাতে যাই নাই। দুদিন জ্বর ছিলো। মা আমাকে নিয়ে চিন্তার শেষ নেই। 

কতবার বলছি টিউশনির দরকার নাই করাতে! টাকার কিসের প্রয়োজন আমাদের কি টাকা নাই? 

মায়ের এইসব রাগ গুলো এখন ঝাড়ে। আমি বুঝালাম যে যতদিন চাকুরীটা না পাই। বসে থেকে সময় কাটাতে টিউশনি করাই। মায়ের কথা  ব্যাংক থেকে বাবার রাখা টাকা গুলো দিয়ে ব্যাবসা শুরু করি। 


আমার পছন্দ শিক্ষকতা করা। তাইতো টিউশনি করাই অবসর সময়ে। আসলে অনার্স শেষ করেই প্রাইমারি স্কুলে চাকুরীর জন্য চেষ্টা করতেছি। হয়ে যাবে কিছুদিনের ভিতর। 


দুদিন পর জ্বর কমলে গেলাম মালিশার ঠিকানায়। বাড়িটাও চার দেয়ালের বেষ্টনী। দু-তলা একটা বাড়ি। অনেকটা আমাদেরটার মতো। 


মালিশাকে তিন দিন দেখি না। ছটফট করছে মন তাই চলে আসলাম দেখতে। আমি যখনই বাড়ির গেইটের কাছে গেলাম নক করতে একজন মাঝবয়সী মহিলা দরজা খুলে দিলো। 


_ তুৃমি রানা না?

_জ্বি। 


আরে ভিতরে আসো! আমাকে নিয়ে বাসার ভিতরে বসালো। আমি ভাবছি এই মহিলা কি করে চিনে আমায়?আমাকে দেখছে বলেও মনে হয় না। তারপরও কি জানি কি হলো। আমাকে বসিয়ে মহিলটা চা নিয়ে এসে আমার সাথে বসলো। 


_এটা মালিশাদের বাসা না? 

_হুম। তুমি ঠিক জায়গায় আসছো টেনশন করার দরকার নাই। 


_মানে আপনি আমাকে কি করে চিনেন?আর মালিশা কোথায়? 


_যার ছবি দেখছি তাকে চিনবো না! আর মালিশা ভিতরে আছে আসতেছে। আমি মালিশার মা। 


_আমার ছবি মানে? 


_ওটাই দেখাচ্ছি আসো। 


আমাকে নিয়ে মালিশার মা। মালিশার রুমে গেলো। মালিশা তখন তার রুমে নাই। মালিশার পুরো রুমে দেখি আমার ছবি আঁকা। আর সব ছবির নিচে সুন্দর করে রানা লিখা। 


আমি কি বলবো জানি না।  ওনিই বলে, "মালিশার সবচেয়ে প্রিয় জিনিস গুলো কাগজে একে রাখতে ভালবাসে। "

 নিচে এসে আবার সোফায় বসলাম। মালিশার মা কাজ করতেছে বলে চলে গেলো। একটু পরই মালিশা আসলো। 

আমি তাকিয়ে আছি মালিশার দিকে। এত সুন্দর মেয়েটা আগে এত খেয়াল করিনি। আজ আমার ভিতর ভালবাসার জন্যই এমনই মনে হয় নাকি? 


_ মালিশা, তুমি চলে আসলে যে? 


_চুপ করে আছে। 


_আমি তোমার খুঁজেই এখানে আসছি। আর তুমি আমাকে রেখে চলে আসছো। জানি না তোমার মনে কি আছে? তবে এটা জানি তোমার মুখের হাসিটা না দেখে থাকতে পারিনি। 


_মলিশা একটা কাগজ দিলো তাতে লেখা," আমি চাই না কোন মেয়ের সাথে হাসিখুশী ভাবে কথা বলেন। আর আমি আপনাকে মনে এতটাই একেঁ ফেলছি চোখ বন্ধ করেই আপনার ছবি আকঁতে পারি "


_তুমি কথা বলতে সমস্যা? রাগ করে থাকলে কোন কিছু নিয়ে তাহলে সরি!  আমি তোমাকে ভালবেসে ফেলছি। 


_আমাকে আরেকটা কাগজ দিলো তাতে লেখা, " আমি আপনাকে ভালবাসি "


এটা দেখেই খুশীতে আত্মাহারা হওয়ার মতো অবস্থা। যে ভালবাসা আমাদের ভিতর হয়ে গেলো তা দূর থেকে তাকিয়ে থেকেই। 


আমি বলেই যাচ্ছি। মালিশা চুপ করে শুনেই যাচ্ছে। ততক্ষণে মালিশার মা এসে গেলো। 


_তুমি কোন কিছু মুখে বলো? কি সমস্যা? 


_মালিশা কথা বলতে পারে না। (মালিশার মা) 


বড় একটা শক খেলাম আমি। কি বলা উচিত জানি না। 


_মালিশা কথা বলতে না পারলেও লিখে বলতে পারে। তবে সেটা খুবই কম। ইশারায় কথা বলে বেশি। (মালিশার মা)


আমি তাকিয়ে আছি মালিশার দিকে। দেখি তার চোখ দিয়ে পানি ঝড়তেছে। আমি এগিয়ে গিয়ে মালিশার মুখোমুখি দাঁড়ালাম। চোখের পানি মুছে দিয়ে... 

_তুমি যেমনই হও আমি তোমাকে ভালবাসি। ভালবাসার জন্য কোন ভাষা প্রয়োজন হয় না। 


মাথা নাড়িয়ে বুঝালো। সে আমাকে ভালবাসে। 


মালিশার মাকে বললাম মালিশাকে বিয়ে করবো। তিনিও আমাদের  দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে বললো, তোমরা যা চিন্তা করো তা হবে। 


সে দিন মালিশাদের বাসায় থাকলাম। মাকে কল দিয়ে বলে দেই আসতে পারবো না। বন্ধুদের বাসায় আছি। যদি মালিশার কথা বলি আর  যদি জানতে পারে মালিশা কথা বলতে পারে না তাহলে মানতেও পারে আবার নাও। 


পরেরদিন বিয়ে করে মালিশাকে নিয়ে বাসায় ফিরলাম। মা আমার সাথে মেয়ে দেখে খুশী। কোথায় গালি দিবে ঝগড়া করবে না! 

_এটা কে রানা?(মা)


_মালিশা, বিয়ে করছি ওকে। 


মা মালিশাকে আদর করে বুকে জড়িয়ে ধরলো। মা অনেক কিছু জানতে চাইলো। তখনই বললাম মালিশা কথা বলতে পারে না। মা কিছুই বললো না। মালিশাকে অনেক আদর করেই ঘরে তুলে নিলো। 


ভালবাসার জন্য ভাষার দরকার হয় না। ভালবাসাটাই একটা ভাষা যা অনুভূতি দিয়ে বুঝতে হয়। 


মা মালিশাকে মেয়ের মতোই আদর কতো। বরং তারা দুজন মিলে মাঝে মাঝে আমাকে দিয়ে পুরো বাড়ির কাজ করাতো। আর দুজন বসে গল্প করে। মালিশার ইশারায় কথা মাও বুঝে। তা আমার থেকে আর বেশি। 


আমার জীবনে ভালবাসার কমতি ছিলো না। এখন একটা মেয়েও আছে আমাদের। ভালবাসা কম নেই আমাদের। তবে একটাই সমস্যা  আমার উপর এত অত্যাচার করে ভালবাসার, কি বলবো। 


কোন মেয়ের সাথে কথা বললে খানা বন্ধ, কোথায় গিয়ে বেশি সময় কাটালে কাজ করতে হয় বাসার। 


বিয়ের কিছু দিন পরই প্রাইমারি স্কুলে চাকুরীটা হয়ে গেলো। সব নিয়েই বোবা বউ নিয়ে ভালোই কাটে জীবন।  সব কিছু নিয়েই ভালোই চলছে বর্তমান জীবন। আর ভালবাসা অত্যাচার নিয়ে কিছুই বলার নাই। কয়দিন পর দাদী, মা, মেয়ে সব গুলো  মিলিয়ে আমার বারোটা বাজিয়ে দিবে। 


_ _সমাপ্ত__



Post a Comment

0 Comments